তারাদের জন্য

ডঃ পারমিতা পূর্নেন্দু পালিত একটি তারা মুখ লুকাল বালুচরে, একা… ভাসিয়েছিল ভেলায় তাকে স্বপ্ন আশায় বেঁধে গাঙ্গুর নয়তো, তাই কি মাঝ সমুদ্রেতে ডুবল খেয়া? তীরের মাঝে ছোট্ট তারা মুখটি গুঁজে, একা…   ওই তারাটির জীবনদায়ী বন্ধ হলো এখুনি মারণ অস্ত্রে ধ্বংস হসপিটাল, তাই নার্স অপরাগ, ভিডিওটা শুধু ভাইরাল হলো ঠোঁটের কুলুপ খুললো না কেউ খুলবে না কেউ- ছোট্ট তারা হাঁফিয়ে ডুব ঘুমের দেশে, একা … …

গরমের ছুটি

সুশান্ত দত্ত    বয়স এগারো। নাম প্রবীন। ডাক নাম টুকাই। সুন্দর ফুটফুটে কিশোর মুখখানা দেখলে ভালো লেগে যায়। এই বয়সটায় বিবেকটা থাকে টলটলে। টুকাইয়ের মনেও তেমন ধুলো-বালি লাগেনি। টুকাইরা থাকে রূপচকে।  মা, বাবা আর টুকাই। বাদশাহী সড়ক ধরে কোলকাতা-বর্ধমান-কৈচর। তারপর বাঁহাতি রাস্তা। ন্যারোগেজ লাইন পেরিয়ে চার-পাঁচ কিলোমিটার গেলেই বাঁয়ে ঢালু রাস্তাটা গড়িয়ে গেছে শীতলদিঘির দিকে। শীতলদিঘির ওপারে ছোট্ট টিলা। মাঝে রূপচক। ঐ টিলার ওপর থেকে …

হৃদয় পেরিয়ে

চন্দনা খান যেনাহম্ নামৃতা স্যাম তেনাহম্ কিম কুর্য্যাম্ ? (যা আমাকে অমরত্ব দেবে না তাই নিয়ে আমি কি করবো?) — মৈত্রেয়ী – বৃ্হদারণ্যকোপনিষদ এখনো রাতের আকাশকে খিমচে ধরে আছে হিরন্ময়ী তারারা। এখনও এক কুণ্ঠিত মজা নদী বৃষ্টির ধারাপাতে বেগবতী সুবতী হয়ে শৃঙ্গাররসে মজে। এখনও,এখনও,এখনও ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী দিকভ্রষ্ট রাজকুমারকে উপায় বাতলায় যেন অন্য কোন গ্রহ থেকে লালমন, নীলমন পাখিরা উড়ে আসে শতশতাব্দীর প্রাচীন সুরে বেদগান গায় …

আমার আপন গান

শান্তনু দাশগুপ্ত তখন আমি খুব ছোট, ক্লাস ফোর কি ফাইভ। গরমের ছুটির কোন এক সন্ধ্যা, মা, বাবা আর সোনাকাকা (বাবার পিসতুতো ভাই) রবীন্দ্র সদনে কি একটা অনুষ্ঠান দেখতে গেছেন। আমি দাদু-ঠাকুমার সাথে বাড়িতে, নটার একটু আগেই তিনজন ফিরে এলেন। মার মুখটা বিরক্তিতে ভরা, বেশ অবাক করার মত ব্যাপার। কারণ গানের অনুষ্ঠান শুনে ফেরার পর মা-কে সাধারনত বেশ ফুরফুরে মেজাজেই পাওয়া যেত এবং এখনও যায়। সেদিনের …

সময় আর মাধবীলতা

পার্থ প্রতিম মল্লিক সময়টা অল্প পাল্টেছে; বাকী সব প্রায় এক। না হলে কেন মাঝবয়সে প্রেমে পড়বে মাধবীলতা? দারুচিনি রঙের কনকচাঁপার… আকাশের বুকে মেঘের টুকরো, পূর্ণিমার রাতে – কেউ কি দেখেনি? তাহলে জীবনের নাভিদেশে নতুন কোনো তিলে কেন আশ্চর্য্য হয় মাধবীলতা!   সময়টা পাল্টেছে। তাই আন্দোলনে আজ আর ফেস্টুন বোমা নয়। শুধু চুম্বন আর প্রেম! ওদের কথায়, প্রেম নামুক শহরজুড়ে – বিক্ষোভ আর আন্দোলনে।   মাঝবয়সে …

মুর্শিদ ধন হে

সুদর্শনা ধর কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে নিয়ে লিখতে বসে মনে হল আমি নিতান্তই ওঁর গুনমগ্ধ শ্রোতা বই তো কিছু নই, আমার আর ওঁর যোগসূত্র ওইটুকুই। তবে তাই নাহয় হল। কালিকা রবীন্দ্র অনুরাগী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের “আমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর তোমার প্রেম হত যে মিছে“ উদ্ধৃত করতে শুনেছি। তাই শিল্পীর সৃষ্টির ওপর শ্রোতার অধিকার দাবি করেই আমার এই শ্রদ্ধার্ঘ লিখতে বসেছি। মনে করতে পারিনা শেষ কবে এক গায়ক,বাদক,শিল্পী,লেখক,চিত্রকর এর অকাল …

হায়দ্রাবাদ নট আউট

বেদদ্যুতি চক্রবর্তী কতদিন আগের কথা ! ১৩৭০ কোটি বছর !! হায়দ্রাবাদ – কোলকাতা- মগরা- ভিয়েতনাম- রোম- প্যারিস- ইউরেনাস- নেপচুন- সিরিয়াস- বেটেলগিউস- সপ্তর্ষিমন্ডল- কালপুরুষ- অ্যান্ড্রোমিডা- ব্ল্যাকহোল- ব্রহ্মান্ড — সব একাকার হয়ে ছিল একটা ডিমের মধ্যে। কসমিক এগ। মহাডিম্ব। সেটাই ফেটে চৌচির হয়ে গেছিল। আজ থেকে ১৩৭০ কোটি বছর আগে। সৃষ্টির আপন নিয়মে তৈরি হল সৌরজগৎ। তারমধ্যে পুটকি পৃথিবী। পৃথিবীর মধ্যে বিন্দুবৎ হায়দ্রাবাদ। হায়দ্রাবাদের ঐ পাথরগুলোর বয়স …

উত্তরাধিকার এবং ভিখারি

অমিতাভ পাড়ুই ভগবান বুদ্ধকে স্বামীজী যে কি চোখে দেখতেন তা বলে বোঝানো যাবে না। বুদ্ধর নাম উচ্চারণ করা মাত্রই তিনি যেন কেমন হয়ে যেতেন। বোঝা যেত হৃদয়ের গভীরে এক প্রকাণ্ড তরঙ্গ উঠেছে। ভীষণ অন্তরঙ্গভাবে তিনি বুদ্ধের জীবনী শ্রোতাদের সামনে মেলে ধরতেন। স্বামীজীর বলা এমনই একটি ঘটনা– যা তিনি তাঁর লেকচারে  শ্রোতাদের শোনাতেন। বোধিলাভের পর বুদ্ধ পিতৃরাজ্যে একবার ফিরে এসেছিলেন। বৃদ্ধ পিতার আনন্দ আর ধরে না! …

বাঙলা নাটক

ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী একজন বিশ্ববন্দিত নাট্যকার আর একজন পৃথিবী বিখ্যাত রাজনীতিবিদ। দুজনেরই জিহ্বাগ্রে সরস্বতী এবং দুজনেই নোবেল ল’রিয়েট। একজন তো আবার ওয়ান অ্যান্ড দ্য ওনলি ওয়ান যাঁর ঝুলিতে নোবেল আর অস্কার দু-দুটো শিরোপাই আছে। তবে নাট্যকার ব্যক্তিটি ছিলেন রাজনীতিবিদটির চরম সমালোচক। তবে নিজের নতুন নাটকের প্রিমিয়ারে নাট্যকার টেলিগ্রাম করে নিমন্ত্রন করেছিলেন সেই রাজনীতিবিদকে। ১৯১৩ সালে বার্নাড শ’ তাঁর “পিগম্যালিয়ন” নাটকের প্রথম শো’র আগে টেলিগ্রাম করলেন চার্চিলকে …

খুনী

নির্মাল্য সেনগুপ্ত আমার প্রাক্তণ প্রেমিকার মা আমাকে দেখলেই রেগে যেতেন। বলতেন, এই ছেলেটার মধ্যে একটা ক্রিমিনাল ক্রিমিনাল ছাপ আছে। চোয়াল দেখেই বোঝা যায় অপরাধী। প্রাক্তণ প্রেমিকার বাবা বলতেন, ও চাইলেই খুন করে ফেলতে পারে কাউকে। তাঁরা ভুল বলতেননা। আমি সেই জন্মানোর কিছুদিন পর থেকেই পরিবারের দুজন সদস্যকে খুন করার কথা ভেবে চলেছি। একজন আমার বাবা, অন্যজন দাদু।   বোধ হওয়ার পর থেকেই ওই শশ্রুগুম্ফধারী ভদ্রলোককে …